শীতের বিবর্ণতা তাড়াবে ভিটামিন ‘সি’

শীতে গা চিটচিটে ভাব, বিবর্ণতা। সব মিলিয়ে শরীর যেন শুকিয়ে যেতে চায়। এমন পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে বেশি করে ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার খান। শীতের বিবর্ণতা ঠেকানোর তিন পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ফিমেলফার্স্ট অনলাইন।

১. প্রতিদিনই পরিমাণ মতো ভিটামিন ‘সি’ খান। শুধু শীতকালেই নয়, সারাবছরই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকর রাখতে ভিটামিন ‘সি’ এর জুড়ি নেই। এছাড়া ক্লান্তি ও দুর্বলতা কমাতেও এটি অনন্য।

২. গ্রিল করে নেয়া রান্না স্বাস্থ্যসম্মত এবং বছরের সব সময়ই তা খাওয়া যায়। তবে শীতের খাবার তালিকায় বাড়তি মাত্রা যোগ করতে খাবার গ্রিল করে নিন।

৩. শীতের সময় আমাদের খাদ্যগ্রহণের পরিমাণও বেড়ে যায়, বিশেষত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারের চাহিদা। এ সময়ে ক্যালরিও বেশি গ্রহণ করা দরকার। এতে আমাদের ওজন বাড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর চেয়ে ফল আর সালাদ খেয়ে কাটানোই ভালো। শীতকালীন সবজি আর ফলমূলও অনেকটা সহজলভ্য হয়। আর দামও কম থাকে।

ভিটামিন ‘সি’ যুক্ত খাবারঃ

কাঁচা মরিচঃ

সর্বোচ্চ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের তালিকার প্রথমেই রয়েছে আমাদের অতি চেনা কাঁচা মরিচ। আমরা স্যুপ, সালাদ, ভর্তার সাথে বা এমনিতেই কাঁচা মরিচ খেয়ে থাকি। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচে রয়েছে ২৪২.৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। এর পরেই রয়েছে লাল মরিচের স্থান। প্রতি ১০০ গ্রাম লাল মরিচে রয়েছে ১৪৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

পেয়ারাঃ

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পেয়ারা। পেয়ারা প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য অংশে রয়েছে ২২৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। একটি মাঝারি আকারের পেয়ারায় প্রায় ১২৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তবে পেয়ারার জাতভেদে এর পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

বেল মরিচঃ

বেল মরিচ পাস্তা সস বা পিজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি মেক্সিকান মরিচ। প্রতি ১০০ গ্রাম বেল মরিচে রয়েছে ১৮৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।
টাটকা ভেষজঃ

বেশির ভাগ ভেষজই নানান পুষ্টিগুণে ভরপুর। সেটা তাজা হোক অথবা শুকনো। তবে তাজা থাইম ও পোর্সলেতে রয়েছে আর সব ভেষজ থেকে বেশি ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম থাইমে রয়েছে ১৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং প্রতি ১০০ গ্রাম পোর্সলেতে রয়েছে ১৩৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।
গাঢ় সবুজপাতা এবং শাকঃ

আমার খাবার হিসেবে যেসব কাঁচা পাতা খাই যেমন পুদিনা বা লেটুস তেমনই একটি হল Kale। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম Kaleতে রয়েছে ১২০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। শাকের ভেতরে সরিষা শাক সর্বোচ্চ ভিটামিন সি যুক্ত। প্রতি ১০০ গ্রাম সরিষা শাকে রয়েছ ৭০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

ব্রকোলিঃ

সবুজ টাটকা ব্রকোলি ভিটামিন সি-এর আরেকটি ভালো উত্‍স। প্রতি ১০০ গ্রাম ব্রকোলিতে রয়েছে ৯৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

কিউয়ি ফলঃ

কিউয়ি ফল ভিটামিন সি-এর আরেকটি উৎকৃষ্ট উত্‍স। প্রতি ১০০গ্রাম কিউয়িতে রয়েছে ৯৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।
পেঁপেঃ

আমাদের অতি পরিচিত ফল পেঁপে রয়েছে অষ্টম স্থানে। পেঁপেকে ভিটামিন এ এবং ফোলেটের আধার হিসেবে প্রাধান্য দেয়া হলেও এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে রয়েছে মিলিগ্রাম ৬২ ভিটামিন সি।
কমলাঃ

কমলার খাদ্যযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রাম অংশে রয়েছে ৫৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

স্ট্রবেরীঃ

চমৎকার স্বাদের ফল স্ট্রবেরী এমনিতে খাওয়ার পাশাপাশি কেক, আইসক্রিম, ডেজার্ট এবং আরো বিভিন্নভাবে খাওয়া হয়ে থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম স্ট্রবেরীতে রয়েছে ৫৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *