রুকইয়া : ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিও যখন ব্যর্থ

হাকীম এফ শাহজাহান :: আমরা যে কেউ যে কোন সময় এমন কিছু সমস্যায় পড়তে পারি,যা সমাধানের জন্য স্বাভাবিক কোন উপায় বা পন্থা কাজ করে না।
যেমন ধরেন, আপনার পরিবারের কোন শিশু বা নারী অথবা যে কেউ এমন কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, যা প্রচলিত সাধারন কোন চিকিৎসায় ভালো হচ্ছে না। দিন দিন রোগের প্রকোপ বাড়ছে কিন্তু চিকিৎসকের কাছে রোগ ধরা পড়ছে না।
এমন কি ডায়াগনোসিস করলেও কোন রোগ নির্নয় করা যাচ্ছে না। দিনের পর দিন ওষুধ খাচ্ছেন, কিন্তু রোগ নিরাময় হচ্ছে না।
রোগী ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছেন,রোগীর জীবনী শক্তি নি:শেষ হয়ে যাচ্ছে অথচ সঠিক কোন সমাধান মিলছে না। একের পর এক ডাক্তার দেখাচ্ছেন,ডাক্তার পাল্টাচ্ছেন,ওষুধ পাল্টাচ্ছেন,কিন্তু কিছুতেই কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
অথবা আপনার পরিবারের কেউ এমন সব অস্বাভাবিক আচরণ করছে, যা সংসারে মারাত্মক অশান্তি ছড়াচ্ছে। কেউ ঘুমের মধ্যে থেকে হঠাৎ চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দিচ্ছে। কেউ খাওয়ার রুচী হারিয়ে দিন দিন রুগ্ন হয়ে পড়ছে।
এসব হরেক রকম অদ্ভুদ সমস্যাই যে কোন সময় যে কারো হতে পারে। কেউ ঘুমের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করছে,কেউ রাতে ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে বাইরে গিয়ে বড় ধরনের বিপদ ঘটাচ্ছে। কেউ ডিল্যুশন,হ্যালুসিনেশনে আক্রান্ত হচ্ছে।
এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। এমন জটিল সমস্যায় অনেক পরিবারকেই পড়তে হয়। এমন সমস্যা অনেক আগেও ছিল,বর্তমানেও আছে। এই সমস্যা বেশিদিন ধরে চললে একপর্যায়ে রোগী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এমনকি পরিবারের অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়তে থাকেন। কী করবেন দিশা পান না। এ অবস্থায় রোগী একসময় মানসিক রোগেও আ্রকান্ত হয়।
এরকম অদ্ভুত কিছু সমস্যার সমাধানে মেডিকেল সাইন্সে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির উদ্ভব ঘটেছে। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে এমন কিছু রোগ সারানো সম্ভব হয়,যা থেরাপিউটিক বা প্রচলিত আধুনিক চিকিৎসা কিংবা ট্রাডিশনাল চিকিৎসায় সারানো সম্ভব নয়।
তো দেখা গেলো যে সেই ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতেও কোন কাজ হচ্ছে না । নিউরোসাইকোলজি,এবনরমাল সাইকোলজি,সোশ্যাল সাইকোলজি,কাউন্সেলিং সাইকোলজি সব কিছুই ব্যর্থ হচ্ছে ।
তখন কী করবেন ?
বাস্তব কথা হচ্ছে যে, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতেও অনেক সময় এসব সমস্যার কোন সমাধান মিলে না। যখন দেখছেন যে, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিও ফেইল আবার থেরপিউটিক মেডিসিনও ব্যার্থ হচ্ছে,তখন কী করবেন ?
আমাদের প্রত্যেকেরই কম বেশি এমন কিছু অভিজ্ঞতা আছে অথবা অভিজ্ঞতার কথা জানা আছে যে, রোগীকে নিয়ে দেশে বিদেশে চিকিৎসার জন্য ঘোরাঘুরি করে হয়রান পেরেশান হচ্ছেন কিন্তু রোগ সারছে না। দিন দিন রোগ আরো জটিল হচ্ছে। এরকম অস্বাভাবিক আর মনোদৈহিক জটিল অবস্থায় আপনি কী করবেন ?
অ্যালোপ্যাথিক,হোমিওপ্যাথিক,বায়োকেমিক,ইউনানী,আয়ূর্বেদিক তথা ইস্টার্ণ-ওয়েস্টার্ণ,মডার্ণ-ট্রাডিশনাল,মেইনস্ট্রিম-অল্টারনেটিভ কিংবা ন্যাচারাল-আর্টিফিশিয়াল অথবা অর্গানিক-সিনথেটিক, কোন মেডিসিনেই রোগীর রোগ সারছে না। এরকম অলৌকিক অদ্ভুত অবস্থায় সমস্যা সমাধানের পথ কী হতে পারে ?
এই পরিস্থিতিকে সাইকোলজিক্যাল পরিভাষায় বলা হয় প্যারানরমাল সিচুয়েশন। এ অবস্থায় এসে ভুক্তভোগী পরিবারে এক মহা জটিলতা শুরু হয়। শুভাকাংখীরা একেকজন একেক পথ বাতলাতে থাকেন। ভুক্তভোগীরা আর কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না যে তারা আসলেই কী করবেন। কোথায় গেলে সমাধান পাবেন।
কেউ বলেন জ্বীন-ভুতের আসর হয়েছে,কেউ বলবেন বদ নজর লেগেছে,কেউ বলবেন বাতাস লেগেছে,কেই বলবেন ব্ল্যাকম্যাজিকের শিকার হয়েছে। কেউ বলে সিজোফ্রেনিয়া হয়েছে।যাদু টোনা বাণ বা তাবিজ কবজের অনেক কথাই আপনাকে শুনতে হবে।
এজন্য অনেকেই এক্সরসিজম তথা তন্ত্র-মন্ত্রের আশ্রয় নিয়ে থাকেন। এটা মুসলমানদের জন্য সম্পর্ণ না জায়েজ পন্থা। এটা আপনার ঈমান আমল সব ধ্বংস করে দিবে।
তাহলে উপায় ?
উপায় অবশ্যই আছে। আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, সব সমস্যার সমাধান,মহাগ্রন্থ আল কোরআন। এরকম জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এবং রাসুল (সা:) প্রদর্শিত শরিয়ত সন্মত সঠিক পথ,পন্থা ও পদ্ধতি রয়েছে ।
তার নাম ‌’রুকইয়া’।
‘রুকইয়া’ কাকে বলে ? কীভাবে করা যায় ? আপনি কীভাবে করবেন ?
আমাদের আলোচনার বিষয় সেটিই। এরকম জটিল ও কঠিণ সমস্যা সমাধানের সেই শরীয়া সন্মত সঠিক পথ,পন্থা ও পদ্ধতি জানতে চোখ রাখুন আমার পরবতী পোস্টে।
হাকীম এফ শাহজাহান
বিএসএস (অনার্স) এমএসএস >ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এমপিএইচ,এমবিএ,এমএসএস,এমএ,
এলএল বি, পিজিডি ইন আইসিটি ,
ডিইউএমএস> হামদর্দ ইউনানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,বগুড়া।
চেম্বার: শেফা স্মার্ট হাসপাতাল,খান্দার তিনমাথা মোড়,বগুড়া।
যোগাযোগ: ০১৭৩৫ ৭০২৭৫২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *