বাড়ন্ত বয়সে স্থূলতার ৬ সমাধান

অল্প বয়সেই এখন বহু শিশু কিংবা তরুণ-তরুণীর দেহের ওজন বেড়ে যাচ্ছে। তবে এ বয়সে ওজন বৃদ্ধির বিষয়টি খুবই সতর্কতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে হয়। কারণ এ বয়সটি খুবই সংবেদনশীল। এখানে যেমন কড়া ডায়েট কন্ট্রোল করা যায় না তেমন বেশি ওজনও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

১. ক্যালরির হিসাব নয়ঃ

অল্প বয়সে ওজন বৃদ্ধি পেলেও তাদের ক্যালরির জটিল হিসাব করা উচিত নয় বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি প্রায়ই তাদের ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। আর এতে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের গবেষক ও প্রফেসর নেভাইল গোল্ডেন বলেন, মা-বাবা ও চিকিৎসকদের কখনোই ডায়েটিংয়ের বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া উচিত নয়। এটি তাদের ওজন হ্রাসের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নবম শ্রেণিতে ডায়েটিং করে তাদের দ্বাদশ শ্রেণিতে উঠে অন্যদের তুলনায় তিন গুণ ক্ষেত্রে বাড়তি ওজন দেখা যায়। আর এ কারণে বাড়ন্ত বয়সে কখনোই ক্যালরির হিসাব করা উচিত নয় বলে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

২. ওজন নিয়ে কটাক্ষ নয়ঃ

বাড়ন্ত বয়সে শিশু কিংবা কিশোর-কিশোরীর দেহের ওজন বেশি হলেও তাকে কটাক্ষ কিংবা সমালোচনা করা যাবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি তাদের দেহের ওজন কমাতে ভূমিকা রাখবে না। উল্টো এ ধরনের আচরণ তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলবে। আর এতে হিতে বিপরীতও হতে পারে।

৩. নিজের ওজন নিয়ে আলোচনা নয়ঃ

মায়েদের কখনোই নিজের দেহের ওজন নিয়ে সন্তানের (বিশেষত বাড়ন্ত মেয়ের) সঙ্গে আলোচনা করা উচিত নয়। এটিও শিশুকে বাড়তি মানসিক চাপে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এ কারণে কখনোই শিশুর সঙ্গে মায়ের তাঁর নিজের দেহের ওজন বিষয়ে আলোচনা করা উচিত নয়।

৪. স্বাস্থ্যকর খাবার প্রদানঃ

শশুর সঠিক ওজন তৈরির জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই শিশুকে নানা কথা না শুনিয়ে সে যেন সঠিকভাবে পুষ্টিকর ও দেহের ওজনের সঙ্গে মানানসই খাবার খায় সে জন্য মনোযোগ দিতে হবে। শাকসবজি ও ফলমূলে গুরুত্ব দিতে হবে। বাড়তি চিনি ও মিষ্টি খাবার বাদ দিতে হবে। ফাস্ট ফুড কিংবা জাংক ফুড এড়িয়ে চলতে হবে। এতে তার দেহের ওজন নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে।

৫. খেলাধুলায় উৎসাহঃ

শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। আর শিশুর দেহের সঠিক ওজন গড়ে তোলার জন্যও এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। শিশুকে নিয়মিত খেলাধুলা করতে দিতে হবে। এতে শিশুর দেহের ওজন যেমন ভারসাম্যপূর্ণ হবে তেমনি অন্যান্য দুর্বলতাও দূর হবে।

৬. পারিবারিকভাবে উদাহরণ সৃষ্টিঃ

বিশেষজ্ঞরা শিশুর বাড়তি ওজনের সমস্যা সমাধানে পারিবারিকভাবে একত্রে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিশুকে কোনো একটি বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে মা-বাবা যদি নিজেরাই তার বিপরীত কাজ করেন তাহলে তা শিশুর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। এ কারণে বাড়ন্ত বয়সী সন্তানের কাছে নিজেদের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা জরুরি। মা-বাবার সঠিক খাদ্যাভ্যাস গঠনের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি খুবই কার্যকর একটি উপায়।.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *