প্লাজমা থেরাপি, প্লাজমা ডোনার ক্লাব এবং প্লাজমা ব্যাংক মুভমেন্ট

 
হাকীম এফ শাহজাহান :: করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি ব্যবহার করার জন্য জরুরি অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।
 
বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে প্লাজমা থেরাপির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। এই সময়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন প্লাজমা।
 
বাংলাদেশে রক্তদান এখন একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছায় রক্তদানে জীবন ফিরে পাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এখন যদি প্লাজমা দানকে এরকম সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া যায়,তাহলে মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে আল্লাহর ইচ্ছায় অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব।
 
আসুন, এখন আমরা প্লাজমা ব্যাংক সামাজিক আন্দোলনে শরীক হই।
 
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর যারা আল্লাহর ইচ্ছায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন, কেবলমাত্র তাদের প্লাজমা থেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মুমূর্ষ রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। এজন্য করোনাজয়ীদের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা জরুরী। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে করোনজয়ীদের এক প্লাটফর্মে আনা হবে। তাদেরকে প্লাজমা দানে উৎসাহিত করা হবে।
 
এরপর তাদের প্লজমা নিয়ে প্লাজমা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হবে। সেই প্লাজমা ব্যাংক করোনজয়ীদের কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করবে। এরপর কারোনায় জীবন বিপন্ন হওয়া মানুষদের চিকিৎসার জন্য সেই প্লাজমা ব্যাংক থেকে প্লাজমা সরবরাহ করা হবে।
 
এটি বাস্তবায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলনরে প্রয়োজন। আমার অপনার সকলের সহযোগিতার প্রয়োজন। আসুন, আমাদের সঙ্গে আপনিও যোগদিন মানুষের জীবন বাঁচানোর সেই সামাজিক আন্দোলনে।
 
প্লাজমা কী ?
মানুষের রক্তের জলীয় অংশকে প্লাজমা বা রক্তরস বলা হয়। রক্তের মধ্যে প্রায় ৫৫ ভাগই থাকে হালকা হলুদ রঙের এই প্লাজমা। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরে যারা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাদের শরীরে এক ধরণের অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার তৈরি হয়।
 
প্লাজমা থেরাপি কী ?
করোনাজয়ীদের শরীর থেকে প্লাজমার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অ্যান্টিবডি যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির শরীরে প্রয়োগ করা হয়, তখন তার শরীরের সেই অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তখন তিনিও সুস্থ হয়ে ওঠেন। এটাকেই প্লাজমা থেরাপি বলা হয়।
 
চিকিৎসকরা এভাবেই করোনাজয়ী একজনের শরীর থেকে প্লাজমা বা রক্তরস সংগ্রহ করে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রয়োগ করবেন। ফলে তার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে। প্লাজমা থেরাপির মাধ্যমে একজনের শরীরের কার্যকর অ্যান্টিবডি অন্যদের শরীরের স্থানান্তর করা হবে।
 
চিকিৎসকরা আশা করছেন একজন সুস্থ রোগীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা প্লাজমা দুই থেকে তিনজন অসুস্থ রোগীকে দেয়া সম্ভব হবে।
 
এখন করনীয় কী ?
এখন সবার আগে জরুরী করনীয় কাজ হচ্ছে সারা দেশের করোনাজয়ীদের খুঁজে বের করা।তাদের একটা নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। প্লাজমা ডোনার
ক্লাবে সংগঠিত করা এবং প্লাজমা ডোনার ক্লাবের মাধ্যমে তাদের প্লজমা দিতে মোটিভেট করা। তাদের প্লাজমা সংগ্রহ করা। সেই সংগৃহিত প্লাজমা সংরক্ষনের জন্য প্লাজমা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা। এরপর সেই প্লাজমা ব্যাংক থেকে করোনা চিকিৎসায় প্লজমা সরবরাহ করা।
 
এই কাজটি আমরা শুরু করেছি। এখন করোনাজয়ীদের খোঁজ করা হচ্ছে। আপনার আশেপাশের পরিচিত করোনাজয়ীদের খোঁজ দিন,তাদের নেটওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করুন। এরপর মোটিভেশন দিয়ে প্লাজমাদানে উৎসাহিত করুন। প্লাজমা ব্যাংককে খোঁজ দিন। প্লাজমা ব্যাংক ডোনাররের প্লাজমা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করবে ইনশাআল্লাহ । সেখান থেকে প্লাজমা নিয়ে চিকিৎসকরা অসংখ্য মানুষকে কোভিড-১৯ থেকে বাঁচাতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
 
হাকীম এফ শাহজাহান
ডিইউএমএস
হামদর্দ ইউনানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,বগুড়া।
চেম্বার : শেফা স্মার্ট হাসপাতাল,খান্দার তিনমাথা মোড়,বগুড়া।
01735 702752

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *