তিব্বে ইলাহী, একুশ শতকের মহামারি এবং আধুনিক মেডিক্যাল ফিলোসফি

 হাকীম এফ শাহজাহান :: আল্লাহ মানব জাতি সৃষ্টির পাশাপাশি সকল রোগ জীবানুও সৃষ্টি করেছেন। আর আল্লাহই সকল রোগের নিরাময় দান কারী-এই বিশ্বাসই হচ্ছে মেডিকেল ফিলোসফির মুলমন্ত্র। আর মেডিক্যাল ফিলোসফির মুল উৎসই হচ্ছে তিব্বে ইলাহী।

যুগে যুগে আল্লাহ সুবহানুওয়াতায়ালা মানুষের রুহের চিকিৎসার জন্য নবী রাসুল এবং অহী পাঠিয়েছেন। সেইসঙ্গে মানুষের দেহের রোগ নিরাময়ের জন্য সুস্পষ্ট বিধি বিধান পাঠিয়েছে। দোওয়া এবং দাওয়া বাতলে দিয়েছেন।
মানব জাতির রোগ নিরাময়ের জন্য আল্লাহ সুবহানুওয়াতায়ালা সুস্পষ্ট যে বিধি বিধান পাঠিয়েছেন তাকেই তিব্বে ইলাহী বলা হয়। আল্লাহর নির্দেশিত চিকিৎসা পদ্ধতিই হচ্ছে তিব্বে ইলাহী।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে রোগ নিরাময়ের জন্য সুস্পষ্টভাবে বিভিন্ন দোওয়া এবং
দাওয়া বাতলে দিয়েছেন।
বিশেষ করে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ মানুষের চিকিৎসার জন্য যে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন সেটাকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে তিব্বে নববী।
বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সা:) তিব্বে ইলাহীকে ভিত্তি করেই মানবজাতির রোগ নিরাময়ের জন্য তিব্বে নববীর প্রচলন করেছেন।
তিব্বে ইলাহী এবং তিব্বে নববীই হচ্ছে আধুনিক মেডিক্যাল ফিলোসফির মুল উৎস। অথচ সুপরিকল্পিতভাবে সেই উৎসকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা বিদ্যার অ্যাকাডেমিক চর্চা থেকে। অথচ আমরা সেই উৎসের ওপর ভরসা করলে এবং সেই মোতাবেক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন করলেই সব ধরনের রোগ নিরাময় এবং মহামারি থেকে রক্ষা পেতে পারি।
মুল কথা হচ্ছে পবিত্র কুরআনে নির্দেশিত চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে তিব্বে ইলাহী। পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানুওয়াতায়ালা মানুষের রোগ নিরাময়ের জন্য মধু, ত্বীন এবং জয়তুনের কথা উল্লেখ করেছেন।
পবিত্র কুরআনুল কারীমে সুরা নহলের ৬৮-৬৯ নং আয়াতে মধু সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বলেন, আপনার প্রতিপালক মৌমাছিকে আদেশ দিলেন, পাহাড়ে, বৃক্ষে ও উঁচু চালে গৃহ নির্মাণ কর ।
এরপর সর্ব প্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথসমূহে চলমান হও। তার (মৌমাছির পেট থেকে বিভিন্ন ধরনের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রােগের প্রতিকার।
পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা আন’আমের ৯৯ ও ১৪১ নং আয়াতে, সূরা নাহল, সূরা নূর ও সূরা তীন এ যাইতুন ও ত্বীন এর কথা উল্লেখ করেছেন ।
তিব্বে ইলাহীকে ভিত্তি করে রাসুল (স:) প্রবর্তিত এবং হাদীসে নির্দেশিত চিকিৎসা পদ্ধতিই হচ্ছে তিব্বে নববী।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বর্ণনা করেন, রাসুল (স:) ইরশাদ করেন, মধু ও কুরআনের মাধ্যমে তােমাদের চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
(সূনানে ইবনে মাজাহ, হাকেম, মিশকাত)।
হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রাযি.) বলেন: রাসুল (স:) আমাদেরকে কুসতে বাহরী এবং যাইতুন তেল দ্বারা নিউমােনিয়া রােগের চিকিৎসা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখিত কুরআনের আয়াত এবং হাদীস দ্বারা তিব্বে ইলাহী এবং তিব্বে নববীর বাস্তব দৃষ্টান্ত আমরা উপলব্ধি করতে পারি। এখন প্রয়োজন এগুলো ভিত্তি করে ব্যাপক গবেষণা করা। যা এতো দিন হযনি। এবং না হওয়ারও যথেষ্ঠ কারণ আছে।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে মেডিক্যাল ফিলোসফি নিয়ে গভীর কোন তথ্য উপাত্ত,তত্ত্ব বিশ্লেষন এবং তত্ত্ব অনুসন্ধানের নজির নেই। আধুনিক চিকিৎবিজ্ঞানের আ্যকাডেমিক অঙ্গনেও মেডিকেল ফিলোসফির চর্চা নেই।
মেডিক্যাল ফিলোসফির চর্চাহীনতার এই সুযোগে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানকে মানব জাতির চিরন্তন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর একটা শয়তানী অপচেষ্টা চলে এসেছে কয়েক শতাব্দী ধরে।
এরফলে বিজ্ঞানের চরম উৎকষৃতার এই একুশ শতকে এসেও আমরা করোনাভাইরাস নামের এক অদৃশ্য মহামারির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছি। এখানে তথাকথিত সেই বিজ্ঞান আর কোন কুল কিনারা পাচ্ছে না।
বাংলাদেশের এমবিবিএস সিলেবাসে এবং পৃথিবীর অন্যান্য মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিদ্যার সিলেবাসেও মেডিকেল ফিলোসফি বা ফিলোসফি অব মেডিসিনের চর্চা নেই । আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এটা এক ধরনের সমিাবদ্ধতা।
প্রকৃতপক্ষে তিব্বে ইলাহী এবং তিব্বে নববীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ফিলোসফি। সেই ফিলোসফির চর্চা যত বাড়ানো যাবে,চিকিৎসা বিজ্ঞান ততই সমৃদ্ধ হবে।
আসুন,আমরা আধুনিক মেডিক্যাল ফিলোসফির মুল উৎস তিব্বে ইলাহী এবং তিব্বে নববীর চর্চা শুরু করি। এতে সমগ্র মানব জাতি উপকৃত হবে ইনশাআল্লাহ।
হাকীম এফ শাহজাহান
চিকিৎসা বিজ্ঞানের আজীবন শিক্ষার্থী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *