করোনা ভ্যাকসিনের বিজনেস : মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া

হাকীম এফ শাহজাহান :: এই সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে হট বিজনেস হচ্ছে করোনার ভ্যাকসিন। এটা এমন এক ব্যবসা যা একটা সভ্যতা পাল্টে দিতে সক্ষম।
কমপক্ষে একশ বছর চলবে এই ভ্যাকসিনের ব্যবসা। যারাই প্রথমে ব্যবসাটা শুরু করতে পারবে,তারাই ১শ বছর ধরে দাপট দেখাবে সমগ্র পৃথিবীতে। তাই এই ব্যবসার লোভে এখন মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলা শুরু হয়ে গেছে।
আজ থেকে ২শ বছর আগে ১৮২০ সালে ম্যালেরিয়া মহামারির ভ্যাকসিন ব্যবসায় বিশ্বজুড়ে এরকমই মানুষের জীবন নিয়ে জূয়া খেলা শুরু হয়েছিল।
পথে ঘাটের ঝোপজঙ্গলে জন্মানো অবহেলায় পড়ে থাকা সামান্য এক সিংকোনা গাছ রাতারাতি বিশ্বপরিস্থিতি বদলে দেওয়ার মত মহামূল্যবান হয়ে উঠেছিল। সিনকোনা গাছের বাকল থেকে ম্যালেরিয়া মহামারির ভ্যাকসিন তৈরি নিয়ে সেই সময় রীতিমত বিশ্বজুড়ে রথি মহারথিদের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল।
ঠিক তার ২শ বছর পর ২০২০ সালে এসে সেই একই কায়দায় করোনা মহামারিরতেও মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলা শুরু হয়ে গেছে। ২শ বছর পরও আমরা কর্পোরেট জগতে সেই একই জুয়ার দৃশ্য দেখছি।
তবে ২শ বছর আগের ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিন ব্যবসায় আর আজকের করোনা ভ্যাকসিন ব্যবসার মধ্যে একটা বিষয়ে আকাশ পাতাল ফারাক রয়েছে। সেই সময় ভ্যাকসিনের উপাদান ছিল একটি গাছ। তখন সবাই জানতো যে সিনকোনা নামের গাছ থেকেই ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিযোগিতাটা চলছে।
কিন্তু এখন তো করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে সবাই অন্ধকারে নিমজ্জিত। কোন দেশ কোন উপাদানে ভ্যাকসিন বানাচ্ছে তার কোন কুল কিনারা নেই।
যারফলে ভ্যাকসিনের হালাল হারাম নিয়েও তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। কোন দেশের ভ্যাকসিন হালাল আর কোন দেশের ভ্যাকসিন হারাম এই বিতর্কের পেছনেও রয়েছে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের বিজনেস।
করোনা মহামারির ভ্যাকসিন এখন শুধু বৈশ্বিক কর্পোরেট সংঘাতে সীমাবদ্ধ নেই । এটা এখন রীতিমত সভ্যতার সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ভবিষ্যৎে জাতিগত সংঘাতেও রূপ নিতে পারে করোনা ভ্যাকসিন বিজনেস।
পৃথিবীর ছোটবড় বিভিন্ন দেশই এখন এই ভ্যাকসিন ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। কার আগে কে বাজারে করোনার ভ্যাকসিন আনতে পারে, সেই ঠান্ডা যুদ্ধ এখন রীতিমত গরম যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে।
কর্পোরেট সোসাইটিতে শুরু হয়েছে ভ্যাকসিনের বাজার দখলের মহাযুদ্ধ। এই নিয়ে এক দেশের সঙ্গে শুরু হয়েছে আরেক দেশের কুটনৈতিক কুটচাল। আমি এটার নাম দিয়েছি ভাইরাস ডিপ্লোম্যাসি।
বাংলাদেশ চীনের ভ্যাকসিনের দিকে ঝুঁকতেই ইন্ডিয়া এসে হাজির। তারাও ভ্যাকসিনের বাণিজ্য করতে চায়। আছে আমেরিকা অস্ট্রেলিয়ার মত দেশেরও বাণিজ্যিক টোপ। এখন কে কার ভ্যাকসিন কিনবে ? কাকে খুশি করলে কে বেজার হবে ? এইসব এখন অনেক দেশের কাছে মহা সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে।
করোনা মহামারিতে মানুষের জীবন নিয়ে জূয়ায় শেষ পর্যন্ত জিতবে কারা ? সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *