করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে পরিবারের পরিকল্পিত খাদ্যতালিকা তৈরি করুন

হাকীম এফ শাহজাহান :: এখন এক চরম হতাশা আর আতঙ্কের নাম করোনা। অদৃশ্য ভাইরাসের মহামারিতে গোটা দুনিয়া তছনছ । এলোমেলো হয়ে গেছে আমাদের চারপাশ। থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ। বিশ্বের বিখ্যাত সব চিকিৎসক, বিজ্ঞানীর অক্লান্ত আলোচনা গবেষণার পরও এই রোগ থেকে মুক্তির কোনও সদুত্তর এখনও মিলছে না ।
করোনা মহামারি থেকে বাঁচতে শুধুমাত্র একটা প্রতিষেধকের আশায় চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছে গোটা পৃথিবী। কবে মিলবে করোনার টিকা, তার উওর এখনও অজানা পৃথিবীর সবার কাছে।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে করোনার সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে যেমন, ম্যাক্স, স্যানিটাইজর এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি, তেমনই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে রক্তে প্রতিরোধ ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ইমিউনিটি শক্তিকে বাড়িয়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন।
যতদিন পর্যন্ত করোনার কোনও টিকা আবিষ্কার না হচ্ছে ,ততদিন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় সতর্কতা বিধির সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ এবং স্বাস্থ্যবান থাকতে প্রচুর টাটকা শাকসবজি,গরম পানি এবং ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।
আজ আমি এখানে কয়েকটি ফলের বলছি,যা প্রাকৃতিকভাবে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধিএসব ফল এবং শাক-সব্জির মধ্যে যেগুলো সবচেয়ে বেশি কার্যকর সেগুলোর কথাই এখানে জানানো হচ্ছে।
আপনার নিত্যদিনের খাদ্য তালিকায় এগুলো রাখা যেমন সহজ তেমনি এই অভ্যাস গড়ে তুললে করোনা থেকে রেহাই তেমনি সহজ হবে ইনশাআল্লাহ।
১.আমলকি:
ছোটোখাটো চেহারার সবুজ এই ফলটি খেতে টক হয়। এই ফলটি আমাদের দেশের সব জায়গাতেই পাওয়া যায়। এটি ভিটামিন সি, আয়রন এবং ফোলেটে সমৃদ্ধ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর।
সাম্প্রতিক ক্লিনিকাল ট্রায়ালস কমিউনিকেশনস ২০২০ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে যে, আমলার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি জারণ চাপের কারণে শরীরে সৃষ্ট কোনও ক্ষতের পরিমাণ হ্রাস করতে পারে এবং দেহে রক্তের তরলতার উন্নতিতেও সহায়তা করে।
২. পেঁপে’ :
কাঁচা পাকা দুই অবস্থাতেই দারুণ উপকারী একটি ফল বা সবজি।পাকস্থলির হজম স্বাস্থ্যের পাশাপাশি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়তা করে। পেঁপেও ভিটামিন সি এর একটি ভাল উৎস। এ ছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলির উপস্থিতি ডিটক্সিফিকেশনে সহায়তা করে এছাড়াও পেঁপে কোষের পুনর্জন্মে সহায়তা করে।
৩. কমলা লেবু :
কমলালেবুতে ভিটামিন সি, ফাইবার এবং খনিজগুলির মতো থায়ামিন, পটাসিয়াম ইত্যাদি রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। কমলালেবু গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে কম থাকে, যা তাদের ওজন পর্যবেক্ষক এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ভীষন উপকারী ।
৪. পেয়ারা :
ভিটামিন সি এর ভাল উৎস ছাড়াও পেয়ারা পটাশিয়ামের মতো ফাইবার এবং খনিজে সমৃদ্ধ। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি রোগের বিরুদ্ধে এই ফল খুবই উপকারী । পেয়ারায় থাকা পুষ্টিগুন স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়তা করে এবং রক্তে চিনির মাত্রা হ্রাস করে।
৫.ক্যাপসিকাম:
শীতকালীন এই সবজিটি ভিটামিন সি, ই, এ, ফাইবার এবং খনিজ ফোলেট এবং পটাসিয়াম সহ আরও কয়েকটি খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। ফোলেট রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে এবং হজমের সময় খাবার গুলি ভাঙ্গার প্রক্রিয়া চলাকালীন এটি আয়রন শোষণে সহায়তা করে।
৬. পাতিলেবু :
ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক অ্যাসিডের ভরা লেবু প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং সাইট্রিক অ্যাসিডের উপস্থিতি এটি চর্বি হ্রাসের জন্য খুবই কার্যকরী।
হালকা গরম জলে এক চামচ মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে আমাদের শরীর বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়তে পারে এবং ওজন হ্রাসে সহায়তা করে।
সুস্থ থাকতে নিয়মিত এগুলো খাওয়ার অভ্যাস করলে করোনা থেকে সরক্ষা পাবেন ইনশাআল্লাহ।
সুস্বাস্থ্যের সুখবর
[ শেফা স্মার্ট হাসপাতালের সৌজন্যে পরিবেশিত ]
হাকীম এফ শাহজাহান
ডিইউএমএস
হামদর্দ ইউনানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,বগুড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *