করোনা উপসর্গ সারাতে কাজে লাগান তিতবেগুন

হাকীম এফ শাহজাহান :: তিতবেগুন বা কাঁটা বেগুন ছোট এবং কাঁটাযুক্ত একধরনের গাছ । এটি পথের ধারে ঝোপ-জঙ্গলে অহরহ দেখা যায় । বাড়ি পাশে পতিত জায়গায় প্রচুর পরিমানে তিতবেগুনের গাছ দেখা যায়। এটি অনাদরে অবহেলায় জন্মালেও এর অনেক ওষুধী গুন রয়েছে।
তিতবেগুন গাছ সাধারণত ১-২ মিটার উঁচু হয়। ফুল হালকা বেগুনি ও হালকা হলুদ। তিতবেগুন গাছটির পাতা সহ সমস্তটায় কাটা যুক্ত। তিতবেগুন গাছের পাতা, বীজ, ফুল, কাণ্ড শিকড় সবই ঔষধি গুনে ভরপুর।
করোনাকালে যাদের শ্বাসকষ্ট আছে তারা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। শ্বাসকষ্ট থাকা অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সেটা খুবই বিপদজনক হতে পারে। এজন্য এই দু:সময়ে আপনার শ্বাসকষ্ট থাকলে সেটি নিরাময়ের চেষ্টা করতে হবে। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে শ্বাসকষ্টের রোগীকে সবসময় সতর্কও থাকতে হবে।
এই সময় আপনার হাঁপানি সারাতে তিত বেগুন খুবই কার্যকরী একটি ওষুধ হতে পারে। যাদের হাঁপানি বা শ্বাস কষ্ট রয়েছে তারা এই তিত বেগুন গাছের পাতা ছেঁচে রস করে নিয়মিত খেলে হাঁপানি থেকে মুক্তি পাবেন।
সর্দি-কাশি জ্বর সারাতেও তিতবেগুন দারুন কাজ করে। কাজেই করোনার যেসব উপসর্গ দেখা যায়,সেরকম কোন উপসর্গ দেখা দিলে ভয় না পেয়ে এর চিকিৎসা করুন। আর সবচেয়ে সহজ চিকিৎসা হচ্ছে আপনার হাতের কাছে থাকা ভেষজ ওষুধ ব্যবহার করা। বিশেষ করে বিনা পয়সায় করোনার উপসর্গ সারাতে আপনার বাড়ির পাশে থাকা তিতবেগুন দারুন উপকার করবে।
সর্দি-কাশি শ্বাসকষ্ট ছাড়াও হজম শক্তি বাড়াতে দ্রুত কাজ করে তিতবেগুন। যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে তারা এই তিতবেগুন গাছের পাতা সহ সংগ্রহ করে রস করে নিয়মিত খেতে পারলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ।
করোনকালের যৌন সমস্যায় আপনি তিতবেগুন কাজে লাগাতে পারে। তিতবেগুন গাছের পাতা শিকড় সহ সংগ্রহ করে রস করে নিয়মিত ২ চামচ করে দিনে ২ বার খেলে যৌন সমস্যা দূর হয়।
কৃমি সারাতেও তিতবেগুনের খুবই কার্যকর ভুমিকা রয়েছে। যারা তিন মাস পর পর নিয়মিত কৃমির ওষুধ সেবন করেন না বা করতে পারেন না তারা নিয়মিত তিতবেগুনের রস সেবন করলে কৃমিমুক্ত থাকতে পারবেন।
কোথায় পাবেন ?
রাস্তার দুই ধারের ঝোপ-জঙ্গলে এবং বাড়ির আশে পাশেই তিতবেগুনের গাছ পাওয়া যায়।
কীভাবে খাবেন ?
তিত বেগুন গাছের পাতা শেকড় এবং ফলের নির্যাস ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়।
তিতবেগুন গাছের পাতা এবং শেকড়ের ছাল শিল-পাটায় বেটে দুই গ্লাস পানিতে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে একগ্লাস থাকতে নামিয়ে ছেকে নিয়ে পান করতে পারেন।
সতর্কতা: গর্ভবতী মা এবং ২ বছরের নিচের শিশুদের তিতবেগুন খাওয়াবেন না।
সুস্বাস্থ্যের সুখবর
[ শেফা স্মার্ট হাসপাতালের সৌজন্যে পরিবেশিত]
হাকীম এফ শাহজাহান
ডিইউএমএস
হামদদৃ ইউনানী মেডিকের কলেজ ও হাসপাতাল,বগুড়া।
০১৭৩৫ ৭০২৭৫২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *