করোনার মহামারি থেকে বাঁচিয়ে সুস্থ ও সতেজ রাখবে চিরতা

 
 হাকীম এফ শাহজাহান :: চিরতা একটি তেতো ভেষজ উদ্ভিদ। চিরতা চেনাও সহজ,কেনাও সহজ । চিরতা আশেপাশের মসলার দোকানে অথবা বেনেতি দোকানে খুব সহজেই কিনতে পাওয়া যায়। দামও খুব সস্তা। অথচ এই সহজলভ্য সস্তা ওষুধ্ব আপনাকে করোনা থেকে বাঁচাবে। চিরতা ভেজানো পানি আপনাকে করোনাভাইরাস সংক্রমনের হাত থেকে রক্ষা করবে। সংক্রামক অসুখগুলোর বিরুদ্ধে চিরতা খুবই কার্যকর। চিরতা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকায়।
 
করোনা থেকে বাঁচার প্রথম হাতিয়ার শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। চিরতা শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
 
নিয়মিত চিরতার ভেজানো পানি পান করলে শরীরে অসুখ হওয়ার প্রবণতা কম থাকে। সর্দি-কাশি-হাঁপানি,শ্বাসকষ্ট থেকে সারিয়ে তোলে চিরতার পানি।
 
করোনাকালে শ্বাসকষ্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ন। যাদের হাঁপানি আছে অথবা করোনাকালে হাঁপানি বেড়ে গেছে তাদের জন্য চিরতার পানি অসাধারন কাজে লাগবে।
 
সঠিকভাবে চিরতা ভেজানো পানি সেবন করলে ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে প্রবল শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি কমে যাবে।
 
এই করোনায় সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে আছেন ডায়াবেটিস রোগীরা। তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্ররন না থাকলে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত কওয়ার আশংকা প্রবল। এবং এমন রোগীদের করোনা সংক্রমিত হলে সেরে ওঠাও বেশ কঠিন।
 
তাই এই দু:সময়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন রাখা খুবই জরুরী। আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখতেন চিরতা খুবই উপকারী।
 
চিরতার রস দ্রুত রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে দেয়। ব্লাডে সুগার লেবেলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
 
এতে করে অল্প সময়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে আসে। আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন থাকা মানেই আপনিকেরোনাভাইরাসের সংক্রমন মোকাবেলা করতে পারবেন।
 
চিরতা দেহে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করে। এক্ষেত্রে আগের দিন রাতে শুকনো চিরতা ৫ গ্রাম পরিমাণ এক গ্লাস গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন সকালে ওটা ছেঁকে খালি পেটে খেতে হবে।
 
করোনাভাইরাস সংক্রমনের আরেক নাজুক পরিস্থিতি হচ্ছে হাইপারটেনশন। উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, উচ্চরক্তচাপ, অতি ওজনবিশিষ্ট ব্যক্তির জন্যও করোনা ভাইরাস খুবই ভয়ংকর। এদের বাঁচাতে চিরতা খুবই দরকারি। চিরতার পানি রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম করে।
 
হার্টের রোগীদের জন্য করোনা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এই সময়ে হার্ট সুস্থ রাখা জরুরী। চিরতা আপনার হার্টকে সুস্থ ও সবল রাখতে খুবই উপকারি। চিরতার মধ্যে শক্তিশালী এন্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। এটা ক্যানসার ও হৃদরোগে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
 
চিরতা দেহে রক্তকোষ গঠন করে। তাই চিরতা সেবনে রক্তশূন্যতা কমে যায়। এমনকি ঋতুস্রাব বা মাসিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তাও কমাতে পারে।
 
কোথাও কেটে গেলে সে কাটা স্থানে চিরতার রস লাগিয়ে দিলে দ্রুত রক্ত পড়া বন্ধ হয়। অভ্যন্তরীন রক্তক্ষরণ, নাক দিয়ে রক্তপড়া এসবও চিরতা বন্ধ করতে পারে।
 
চিরতা ইনফ্লুয়েঞ্জা সারায়। এইসময় জ্বর হওয়ার প্রবনতা বেশি। আর জ্বর হলেই আমরা করোনার সন্দেহ করি। তাই জ্বরমুক্ত থাকা খুবই জরুরী । চিরতা আপনার জ্বর সারাতেও খুবই কার্যকর।
 
জ্বরের পর অনেকের প্যারাটাইফয়েড জ্বর হয়। টাইফয়েড জ্বরের পরে শরীর খুবই দুর্বল হয়ে যায়। এইসময় শরীর সবল করতে চিরতার রসে যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়।
 
পাকস্থলির সুস্থতায় চিরতা দারুণ কার্যকর। বদহজম, গ্যাস, আলসার,দেহের দুর্বলতা কাটিয়ে শক্তি সামর্থ বাড়িয়ে দেয় চিরতা । অনিদ্রা, বিষণ্ণতা দূর করতেও চিরতার গুণ অতুলনীয়।
 
এছঅড়াও চিরতার আরো অনেক গুন আছে। চিরতার রস কৃমিনাশক। তারুণ্য ধরে রাখতেও চিরতার গুরুত্ব অপরিসীম। টাক মাথায় চুল গজাতেও চিরতার জুড়ি নেই।
 
অনেকেরই মারাত্মক অ্যালার্জির সমস্যা থাকে। অ্যালার্জির জন্য শরীর ফুলে যায়, চোখ ফুলে যায় ও আরও সমস্যা হয়। চিরতা এক্ষেত্রে উপকারি। এছাড়াও ত্বকের অন্যান্য সমস্যাও নিয়ন্ত্রণ করে চিরতার পানি
 
শরীরের ঝিমুনিভাব, জ্বরজ্বর লাগা দূর করে চিরতার রস। নিয়মিত তিতা বা চিরতার রস খেলে ফুড পয়জনিং হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। চিরতা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে।
 
যাদের ডায়াবেটিস নেই কিন্তু রক্তে চিনির পরিমাণ সবসময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে, তাদের জন্য চিরতা গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
 
চিরতার পানি লিভারকে পরিষ্কার রাখে। এছাড়া লিভারের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ফ্যাটি লিভার ও আরও অন্যান্য সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে।
 
চিরতার পানি শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বের করে দেয় । এভাবে শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখে। ও ফ্রেশ রাখে। যেটা শরীরকে সুস্থ রাখতে খুব জরুরি।
 
কীভাবে খাবেন ?
শুকনা চিরতার পাতা,ডালপালা কুচি কুচি করে কেটে এক চামচ পরিমান চিরতা এক গ্লাস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন ছেঁকে নিয়ে সেই চিরতা ভেজানো পানি পান করবেন।
 
আধা গ্রাম চিরতার গুঁড়ো ৩ ঘণ্টা অন্তর কয়েক ফোটা মধুসহ চেটে খেলে কাশি ও শ্বাসকষ্টে দারুন উপকার পাবেন।
 
৫ গ্রাম শুকনো চিরতা এক গ্লাস গরম পানিতে সরারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে ছেঁকে খালি পেটে পারেন।
 
ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে ১০ গ্রাম চিরতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ২ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেকে সকালে অর্ধেক বিকালে অর্ধেক থেতে হবে।
 
সতর্কতা:
চিরতা ভেজানো পানি গর্ভাবস্থায় খাওয়া যাবে না।
একনাগাড়ে ২ সপ্তাহের বেশি পান করার প্রয়োজন নেই। মাঝখানে বিরতি দিয়ে আবার একনাগাড়ে ২ সপ্তাহ খেতে পারেন।
উপকার পেতে হলে মাত্রা ঠিক রেখে পান করতে হবে।
 
সুস্বাস্থ্যের সুখবর
[ শেফা স্মার্ট হাসপাতালের সৌজন্যে পরিবেশিত ]
 
হাকীম এফ শাহজাহান
ডিইউএম্সএ
হামদর্দ ইউনানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,বগুড়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *