করোনাকালের লকডাউনে মেদ ভুঁড়ি কোষ্ঠকাঠিন্য আর ড্রিপ্রেশন কেটে সজীব ও তরতাজা হওয়ার সুযোগ

হাকীম এফ শাহজাহান :: করোনাকালের লকডাউনে অথবা রেডজোনে শুয়ে বসে থাকতে থাকতে নিশ্চয় শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমেছে। বেড়েছে ওজন, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস,কোমরের মাপ আর মেদ ভুঁড়ি । দু:শ্চিন্তা ডিপ্রেশনে বেড়েছে কোষ্ঠকাঠিন্য। সেইসঙ্গে শরীরে বাসা বেঁধেছে নানান অসুখ।
 
এসবই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই খারাপ আলামত। মেদ ভুঁড়ি কোষ্ঠকাঠিন্য আর ড্রিপ্রেশন থেকে এখনই রেহাই না পেলে আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন যেকোন সময়।
 
তাই সময় থাকতেই শরীরকে ঝরঝরে তরতাজা করার জন্য এখন থেকেই নিয়মিত সোনাপাতা সেবন করুন।
 
সোনাপাতা আপনার মেদ ভুঁড়ি কোষ্ঠকাঠিন্য আর ড্রিপ্রেশন কেটে সজীব ও তরতাজা হয়ে ওঠার যাদু দেখাবে। সোনাপাতা আপনার হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখবে।
 
সোনাপাতা শুধু নামেই নয়,কামেও ষোলআনা। সোনার চেয়েও দামি এই সোনাপাতা আছে আমাদের হাতের নাগালেই। আর দামেও খুব সস্তা। অথচ এর ওষুধী গুনের কথা শুনলে আপনি চমকে উঠবেন।
তীব্বে নববী বা রাসুলুল্লা ( সা:) এর চিকিৎসা পদ্ধতিতেও সোনাপাতা সোনার চেয়েও বেশি মূল্যবান বলে বিবেচিত হয়েছে।
 
হাদিসে সোনাপাতা সম্পর্কে বলা হয়েছে আসমা বিনেত উমাইস (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল পাক (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি জোলাবের জন্য কী ব্যবহার কর? তিনি শিবরমের নাম বললেন। তখন রসুলে পাক (সা.) বললেন ‘এটা খুবই গরম।’ অতএব হজরত আসমা (রা.) পুনরায় আরজ করলেন, ‘আমি সোনাপাতা দ্বারা জুলাব নেই।’ তখন রসুলে পাক (সা.) এরশাদ করলেন, ‘যদি কোনো জিনিসের দ্বারা মৃত্যু থেকে রক্ষা পাওয়া যেত তবে তা সোনাপাতার দ্বারা পাওয়া যেত।’ তোমরা অবশ্যই সোনাপাতা ব্যবহার করবে, কেননা এটা মৃত্যু ব্যতীত সব রোগের শেফাদানকারী মহৌষধ।’
( সহীহ আত-তিরমিযী, হাদিস নং ২০৩১) ।
 
সোনাপাতা দেখতে অনেকটা মেহেদি পাতার মতো এবং হালকা একটা বুনো গন্ধ আছে এই ফার্ণ জাতীয় উদ্ভিদে। পাতার রং কাঁচা অবস্থায় হলুদাভ সবুজ এবং শুকানো হলে হলুদাভ সোনালি বর্ণ হয়।
সোনাপাতায় আছে ৩ পার্সেন্ট হাইড্রোজায়ানথ্রাসিন গ্লাইকোসাইড,
গ্লাইকোসাইড, ফ্ল্যাভোনয়েড (কেম্পফেরল এবং আইসো-রামানিটিন এর ডেরিভেটিভ),১২পার্সেন্ট খনিজ উপাদান, ১০পার্সেন্ট মিউসিলেজ (গ্যালাক্টোজ, এরাবিনোজ, রামনোজ এবং গ্যালাকটিউরোনিক এসিড),প্রায় ৮পার্সেন্ট পলিঅল (পিনিটল);সুগার (গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজ) এবং রেজিন।
 
সোনাপাতায় বিদ্যমান বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানগুলির কারণে এটা প্রধানত জোলাপ বা রেচক হিসেবে বেশী ব্যবহৃত হয়। কোষ্ট-কাঠিন্য দূর করতে চমৎকার কাজ করে।
 
সোনাপাতায় বিদ্যমান এনথ্রানয়েড রেচক হিসেবে উদ্দীপনা যোগায় এর কারণ হল সেনোসাইড এবং রেইন এনথ্রোন হজম প্রক্রিয়াকে প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। ফলে খুব অল্প সময়ে এবং খুব সহজেই মল দেহ থেকে বাইরে নিষ্কাষিত হয়।
 
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কোষ্ট-কাঠিন্য দূর করার জন্য স্বল্প সময়ের চিকিৎসা হিসেবে সোনাপাতা ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
 
সোনাপাতায় বিদ্যমান ইমোডিন বিভিন্ন পরিমাণে চিকিৎসায় ব্যবহা করা হয়। প্রদাহ নাশ করতে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া এন্টি সেপটিক ও এন্টি আলসার হিসেবেও এটা খুব ভালো কাজ করে। সাইটোটক্সিক এবং কোষ পুনরুদ্ধারে রিজেনারেশনে উদ্দীপনা জাগায়, ডিটক্সিফিকেশন এবং পরিষ্কারক হিসেবেও কাজ করে।
 
এর পাতা কোষ্ট-কাঠিন্য দূর করতে চমৎকার কাজ করে। শরীরের ওজন কামায়, ও উচ্ছ রক্ত চাপ কামতে যাদুর মত কাজ করে।
 
সোনাপাতায় বিদ্যমান এনথ্রানয়েড রেচক হিসেবে কাজ করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। এতে কোলনের সঞ্চালন উদ্দীপিত হয়। ফলে খুব অল্প সময়ে এবং খুব সহজেই মল দেহ থেকে বাইরে নিষ্কাষিত হয়।
 
ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সোনাপাতার কোনো বিকল্প নেই।
 
সোনাপাতা কোষ্ট-কাঠিন্য দূর করতে চমৎকার কাজ করে।শরীরের ওজন কমায়, ও উচ্চ রক্ত চাপ কামতে সাহায্য করে।
 
কীভাবে খাবেন ?
শুকনা সোনাপাতা গুঁড়া করে চায়ের মত করে খেতে পারেন। সোনা পাতার চা খেতে সামান্য মিষ্টি এবং অধিক তিতা লাগবে।
 
৪০ মিলিগ্রাম পাতার গুঁড়া রাতে একগ্লাস গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালিপেটে খেতে হবে।
 
রাতে সোনাপাতা পাউডার আধা গ্লাস গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে ছেকে নিয়ে অল্প পরিমাণ গরম পানি মিশিয়ে চায়ের মত পান করতে হবে।
 
সতর্কতা:
উচ্চ মাত্রায় দীর্ঘদিন সোনাপাতা সেবন করলে শরীরে পটাশিয়াম লেভেল কমে যায়। পটাশিয়াম লেভেল কমে গেলে হাইপোক্যালিমিয়া দেখা দেয়।
 
আমাশয়,পাতলা পায়খানার রোগীদের, বৃদ্ধদের, দুর্বলদের, ও অন্ত্রের কোন রোগ থাকলে তাদের সোনাপাতা সেবন করা যাবে না।
 
আলসার,এপেন্ডিসাইটিস ইত্যাদি সমস্যা থাকলে সোনাপাতা ব্যবহার করা যাবে না।
 
গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে এবং ৫ বছরের নিচের বাচ্চদের সোনাপাতা সেবন করা উচিত নয়।
 
প্রতিদিন সোনাপাতা সেবন করা যাবে না। সপ্তাহে দুই দিন বা তিন দিনের বেশি সেবন করা উচিৎ নয়।
 
সুস্বাস্থ্যের সুখবর
[ শেফা স্মার্ট হাসপাতালের সৌজন্যে পরিবেশিত ]
 
হাকীম এফ শাহজাহান
ডিইউএমএস
হামদর্দ ইউনানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,বগুড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *