সচারাচর জিজ্ঞাসা প্রশ্ন

স্মার্ট হাসপাতাল কি?

স্মার্ট হাসপাতাল হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে তোলা এমন এক স্বয়ংক্রিয় উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র, যেখানে ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যে কোন রোগী যে কোন স্থান থেকে তার পছন্দ ও প্রয়োজন মত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কম খরচে সহজেই সব ধরনের চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন। প্রচলিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা পদ্ধতির বাইরে এটি এমন একটি যান্ত্রিক ব্যবস্থার সমন্বয়, যেখানে সময় ও শ্রম বাঁচিয়ে স্বল্প খরচে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা যায়। বাংলাদেশে প্রথম হলেও প্রযুক্তিবিশ্বে এধরনের হাসপাতাল বেশ সাফল্যের সঙ্গে চিকিৎসাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধান করেছে। স্মার্ট হাসপাতাল কখনো ইন্টেলিজেন্ট হাসপাতাল আবার কখনো ডিজিটাল হাসপাতাল নামেও পরিচিত হচ্ছে।

স্মার্ট হাসপাতাল কেন ?

এখন থেকে মাত্র ৬০ বছর আগে গণযোগাযোগ বিজ্ঞানী ও দার্শনিক মার্শাল ম্যাকলুহান যে গ্লোবাল ভিলেজ থিওরি উপস্থাপন করেছিলেন,সে সময় তাকে অনেকেই পাগলের প্রলাপ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন । অথচ খুবই অল্প সময়ের ব্যবধানে এখন তা রুঢ় বাস্তবতায় পরিনত হয়েছে। সমগ্র বিশ্ব এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। বিশ্বকে একটা গ্রামের সঙ্গে তুলনা করে বিশ্ববাসিকে এই গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সভ্যতা ও বিশ্বব্যবস্থাকে দ্রুত পাল্টে দিচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি। সময়,শ্রম এবং খরচ বাঁচাতে সবকিছুই তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে। ভার্চূয়াল রিয়ালিটি বা কল্পবাস্তবতার যুগ পেরিয়ে বিশ্ব এখন অগমেন্টেড রিয়ালিটি বা উদ্দীপিত বাস্তবতার দিকে এগিয়ে চলছে। অসম্ভবকে সব সম্ভবে পরিনত করছে প্রযুক্তি।
খুব দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে চিকিৎসা ব্যবস্থাও। কৃত্রিম রক্ত,হৃদপিন্ড,কিডনী,ফুসফুস এসবই ল্যারেটরিতে তৈরীর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । অল্প সময়ের মধ্যেই বাজারে কিনতে পাওয়া যাবে মানবশরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। বিশ্বের বিখ্যাত চিকিৎসকগণ এক মূহুূর্তে হাজার হাজার মাইল দুরে থাকা রোগিকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। এটা এখন আর কল্পনা নয়। একেবারে প্রমানিত বাস্তব। একুশ শতকের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে থাকা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। সে কারনেই স্মার্ট হাসপাতালের সুুত্রপাত।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্মার্ট হাসপাতাল

হাতে হাতে স্মাার্টফোনের বহুল ব্যবহার, কল্পনাতীত দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়া মোবাইল ব্যাংকিং,ই-বিজনেসের দ্রুত প্রসার কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিশ্বয়কর জনপ্রিয়তাকে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা মনে করলেও প্রযুক্তি বিপ্লবের খুব সামান্য সুফল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকছি আমরা। অথচ এই সময়ে আমাদের চেয়ে হাজারগুন বেশি সুবিধা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও জাতি। প্রযুক্তির আসল শক্তিকেই আমরা ধরতে পারছি না। যার কারনে প্রকুত উন্নয়ন মিলছে না।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে যেভাবে বিপ্লব ঘটছে তা থেকে অনেক দুরে পিছিয়ে আছি আমরা। সে কারনে উন্নত বিশ্বে যা ঘটছে, আমরা এখনো তা কল্পনাও করতে পারছি না। আমরা প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির এক ঘেরাটোপে বন্দী হয়ে লাঞ্ছনা বঞ্চনা আর প্রতারণার দুষ্টচক্রে ঘুরপাক খাচ্ছি । সেই দুষ্টচক্র থেকে বের হয়ে এসে বাংলাদেশের মানুষকে বিশ্বের সর্বাধুনিক চিকিৎসা সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যেই আমাদের স্মার্ট হাসপাতাল প্রচষ্টা।
ওভার পপুলেশনে জরাজীর্ন,ক্রমবর্ধমান ক্ষুধা দারিদ্র আর দৈতাকার বেকারত্বে হিমশিম খাওয়া এই দেশের ২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার একমাত্র পথই হচ্ছে স্মার্ট স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব,পরিবেশ দূষনের প্রকোপ আর পুষ্টিহীনতায় দ্রুত বহুবিধ রোগব্যধিতে জরাগ্রস্থ দুর্বল হয়ে পড়া জাতিকে সবল করতে হলে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে এনই বের হয়ে আসতে হবে আমাদের। এজন্যই সবচেয়ে সম্ভানাময় হয়ে উঠছে প্রযুক্তি নির্ভও চিকিৎসাক্ষেত্র।
বাংলাদেশে তৈরী ওষুধ আজ বিশ্বেও শতাধিক দেশে বিশাল বাজার সৃষ্টি করেছে। অথচ দেশে চিকিৎসা না পেয়ে প্রতিবছর সাড়ে চার লাখ রোগী ভারতে যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য। এতে প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা যেমন ব্যায় হচ্ছে তেমনি রোগিদের সর্বশান্ত হতে হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র,সুবিধাবঞ্চিত জণগোষ্ঠী তো দুরের কথা, শহরের মানুষও চিকিৎসার নামে হরেক রকম প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অহরহ। স্বাস্থ্যখাতের এই দুরাবস্থা নিরসনে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্মাার্ট হাসপাতালের।

আমরা কে ?

স্মার্ট হাসপাতালের স্বপ্নদ্রষ্টা হচ্ছে সিন্দাবাদ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। এটি আমাদের একটি বহুমুখী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। এরসঙ্গে আরো যুক্ত আছে বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এ্যাঞ্জেলহোম ফাউন্ডেশন এবং সৎ সাহসী এক ঝাঁক উদ্যোমী উদ্যোক্তা।

আমরাই কেন ?

“আমরাই পারি” এটিই হচ্ছে আমাদের উজ্জীবিত হবার মুলমন্ত্র। আমরা বিশ্বাস করি প্রেসিডেন্ট এপিজে আব্দুল কালামের সেই অবিষ্মরনীয় অভিব্যক্তি “মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়” । এই প্রত্যয়কে ধারণ করে আমাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন আর উদ্ভাবনী পরিকল্পনাগুলোকে একত্র করে আমরাই প্রথম শুরু করেছি স্মার্ট হাসপাতালের কার্যক্রম।